অদ্ভুত ৬টি রোগ,যা সত্যি হয় মানুষের
❖❖❖ Description ❖❖❖
ক্যান্সার ও এইডস এর মত মারাত্মক অসুখের কথা আমরা জানি। কিন্তু এমন কিছু অসুখ আছে যেগুলোর কথা শুনলে মনে হবে যে এগুলো আসলে সত্যি নয়! অদ্ভুত কিছু অসুখ সত্যিই হয় মানুষের! আজকের ফিচারে আমরা এমন কিছু মারাত্মক ও ব্যতিক্রমী অসুখের কথাই জানবো আমরা।
১. ওয়ারউলফ সিনড্রোম
একে হাইপার ট্রাইক্লোসিস বা অ্যাম্ব্রাস সিনড্রোমও বলে। জেনেটিক এন্ড রেয়ার ডিজিজ ইনফরমেশন সেন্টার এর মতে, এটি একটি বিরল ত্বকের রোগ। এ রোগে আক্রান্ত রোগীর সারা শরীরে অতিরিক্ত চুল গজায়, যার ফলে দেখতে পৌরাণিক প্রাণীর মত দেখায়। শুধুমাত্র হাতের তালু ও পায়ের পাতা ছাড়া পুরো শরীরেই সূক্ষ্ম লোম গজায়, এমনকি মুখ ও কানেও হয়ে থাকে। এই রোগের কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির মুখের আকার পরিবর্তিত হয়ে ত্রিকোণাকার হতে পারে, নাক গোলাকার হয় এবং দাত পড়ে যেতে পারে। অ্যাম্ব্রাস সিনড্রোম একটি জেনেটিক রোগ এবং এটি প্রভাবশালী বৈশিষ্ট্য। বাবা-মা যেকোন একজনের এই রোগ থাকলে শিশুরও এটি হতে পারে।
২. ফেসিয়াল ব্লাইন্ডনেস
একে প্রসোপ্রেগ্নোসিসও বলে। গ্রিক ভাষায় প্রোসোপো অর্থ চেহারা এবং অ্যাগ্নোসিয়া অর্থ অপরিচিতি। অনেকেরই মানুষের নাম মনে থাকে না। কিন্তু ফেসিয়াল ব্লাইন্ডনেস এ আক্রান্তরা মানুষের চেহারা মনে রাখতে পারে না, এমনকি পরিচিত মানুষেরও এবং একজন থেকে অন্যজনকে আলাদা করতে পারেন না। এই রোগ যখন মারাত্মক পর্যায়ে পৌছায় তখন চেহারা এবং কোন বস্তুর সাথে পার্থক্য করতে অসমর্থ হয়, এমনকি নিজের চেহারাও তারা চিনতে পারেন না। সাধারণ স্মৃতি নষ্ট হওয়া বা ভুলে যাওয়ার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ওফ নিউরোলজিকেল ডিজঅর্ডার এন্ড স্ট্রোক (NINDS) এর মতে, এই রোগ হতে পারে মস্তিষ্কের আঘাতের কারণে, নিউরোডিজেনারেটিভ রোগের কারণে বা স্ট্রোকের কারণে। জন্মগত প্রোসোপ্রেগ্নোসিসও থাকতে পারে মানুষের, তাই বলা যায় যে এই রোগ নিয়েই কেউ জন্মগ্রহণ করতে পারে।
৩. স্লিপিং বিউটি সিনড্রোম
একে ক্লেইন-লেভেন সিনড্রোমও বলে। এই রোগে আক্রান্তরা অতিরিক্ত ঘুমায়। NINDS মতে, এই রোগীরা দিনে ২০ ঘন্টা বা কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত ঘুমায়। তাদের মধ্যে ফ্লু এর মত লক্ষণ দেখা যায় এবং তারা যখন ঘুম থেকে জাগে তখন অদ্ভুত আচরণ করে যেমন – অনেকবেশি খাওয়াদাওয়া করে, মোহাছন্ন থাকে এবং শিশুসুলভ আচরণ করে। NINDS এর মতে এই রোগে আক্রান্ত ৭০ শতাংশ রোগীই কিশোর।
৪. এলিয়েন হ্যান্ড ডিজিজ
এই রোগে আক্রান্তদের বাহু অনিচ্ছাকৃতভাবেই নড়াচড়া করে, বিশেষ করে হাত। এতে তাদের বাহু তাদের শরীরের অংশ নয় বলেই মনে হয়। স্ট্রোক, ব্রেইন টিউমার এবং নিউরোডিজেনারেটিভ অসুস্থতার কারণে হতে পারে এই রোগ।
৫. স্টোনম্যান ডিজিজ
এটি সংযোগ কলার সমস্যা জনিত রোগ। এর ফলে লিগামেন্ট, টেন্ডন এবং স্কেলেটাল মাসেল হাড়ে পরিণত হয়। এই রোগটিকে ফাইব্রোডিস্প্লেসিয়া, অসিফিকান্স প্রোগ্রেসিভা (FOP) বলে। আক্রান্তরা নড়াচড়া করতে পারেন না, খেতে ও শ্বাস নিতেও কষ্ট হয়।
Comments
Post a Comment